শিরোনাম:

আগামীকাল জন্মাষ্টমী, বাড়িতে কিভাবে পুজো করবেন, সঠিক সময় কোনটি | জানুন বিস্তারিত নিয়ম বিধি..

ভগবান শ্রীকৃষ্ণ যেই দিনে গোপাল রূপে জন্মগ্রহণ করেছিলেন সেই দিনটিকেই পালন করা হয়ে থাকে জন্মাষ্টমী হিসাবে। ভাদ্রমাসের অষ্টমীর রাতে ভগবান জন্ম নিয়েছিলেন দু’ষ্টের হাত থেকে পৃথিবীকে রক্ষা করার উদ্দেশ্যে। পিতা বাসুদেব ও মাতা দেবকীর গর্ভে জন্মগ্রহণ করেন শ্রীকৃষ্ণ। শ্রীকৃষ্ণ হলেন বিষ্ণুর অষ্টম অবতার এবং অষ্টম সন্তান রূপেই মাতা দেবকীর গর্ভে জন্মগ্রহণ করেন।

তাঁর জন্মের এই বিশেষ দিনটিতে বৃন্দাবন, মথুরা, মায়াপুর প্রভৃতি ধর্মীয় স্থানে, বিভিন্ন এলাকার কৃষ্ণ মন্দিরে, এমনকি ভক্তদের বাড়িতেও পূজিত হয়ে থাকেন ভগবান শ্রীকৃষ্ণ। নিজের ও সংসারের সৌভাগ্য ফেরাতে এই দিনটির কোনো বিকল্প নেই। তো কিভাবে এই জন্মাষ্টমী ব্রত পালন করবেন ও জন্মাষ্টমীর সময় তিথি এবং এইদিন কি কাজ করলে ভগবানের কৃপা লাভ করতে পারবেন, আসুন এই বিষয়ে বিস্তারিত জেনে নিই…

স্মার্ত মতে জন্মাষ্টমী: বাংলা পঞ্জিকা অনুযায়ী ১১ই আগস্ট মঙ্গলবার অর্থাৎ ২৬শে শ্রাবণ সকাল ৯টা ৯ মিনিটে শুরু হবে স্মার্ত মতে জন্মাষ্টমী। তা থাকবে পরদিন ১২ই আগস্ট ১১টা ১৭ মিনিট পর্যন্ত। গোস্বামী মতে জন্মাষ্টমী: ১২ই আগস্ট অর্থাৎ ২৭শে শ্রাবণ গোস্বামী মতে জন্মাষ্টমী পালন হবে। কারণ ১১ই আগস্ট মধ্যরাতের পরই রোহিনী নক্ষত্রযোগ সৃষ্টি হচ্ছে।

স্কন্দ পুরাণ মতে বলা হয়ে থাকে, যে ব্যাক্তি তার জন্মাষ্টমী ব্রত পুরো জীবনে একবারও পালন করে না তাকে পরজন্মে সর্প, ব্যাঘ্র ইত্যাদি রূপে জন্ম গ্রহণ করতে হয়। তাই অবশ্যই আপনারা আপনাদের কর্ম থেকে মুক্তি পেতে অর্থাৎ মহা পাপ থেকে মুক্ত হতে এবং সম্পূর্ণরূপে মুক্তি লাভ করতে জীবনে অন্তত একটিবার হলেও জন্মাষ্টমী ব্রত পালন করুন।

এই ব্রত অত্যন্ত সহজ, কারণ শ্রীকৃষ্ণ আমাদের বাড়িতে আসেন একদম ছোট শিশু হিসাবে। আর একজন ছোট শিশুর জন্মদিনে আমরা যেভাবে তাকে খুব সহজ উপায়ে আনন্দ দিয়ে থাকি ও পছন্দের খাবার খাওয়াই। ঠিক সেভাবেই ভগবানের পছন্দসই ভোগ নিবেদন করে তাঁর কৃপা লাভ করতে পারি।

এইভাবে ও কিছু নিয়ম মেনে আমরা জন্মাষ্টমী ব্রতটি পালন করতে পারি। তবে মনে রাখবেন জন্মাষ্টমী ব্রতটি পালন করার সময় অবশ্যই আপনারা উপবাসে থাকবেন এবং আগের দিন অবশ্যই নিরামিষ খাবার খাবেন। যদি সম্পূর্ণ নির্জলা উপবাস আপনাদের পক্ষে রাখা সম্ভব না হয়ে থাকে তাহলে আপনারা ঐদিন সাবু, ফল ইত্যাদি জাতীয় খাবার গ্রহণ করতে পারেন। মধ্যরাতে পুজো শেষ হলে তারপরে আপনারা খাবার গ্রহণ করতে পারবেন।

পুজোর নিয়মবিধিঃ প্রথমে অবশ্যই আপনারা স্নান করে শুদ্ধ হবেন, শুদ্ধ বস্ত্র পরিধান করে আপনার বাড়ির যে স্থানে গোপাল ঠাকুরকে রাখবেন সেই স্থানটি ভালো করে শুদ্ধ করে নেবেন। সেই স্থানে একটি জল চৌকি স্থাপন করে ছোট সিংহাসন বা একটি ছোট দোলনা রাখবেন। তার উপরে স্থাপন করবেন ছোট্ট গোপালকে। এবং সেই স্থানে অবশ্যই আপনারা একটি হলুদ কাপড় বিছিয়ে দেবেন।

শ্রীকৃষ্ণকে একটি হলুদ রং এর মালা পরাবেন, পুজোর উপকরণ হিসেবে সংগ্রহ করবেন তুলসী, চন্দন, ধূপ, দীপ, ফল নৈবেদ্য, আতপ চাল, মিছরি, ক্ষীর, এবং অবশ্যই শ্রীকৃষ্ণের পূজার সময় এই মন্ত্রটি মনে মনে জপ করবেন,“ওম নমঃ ভগবতে বাসুদেবায়ঃ”। যদি সম্ভব হয় আপনারা সর্বদাই এই দিনটিতে কৃষ্ণ প্রণাম মন্ত্র পাঠ করবেন, যদি না সম্ভব হয় তাহলে শ্রবণ করতে পারেন। এছাড়াও কৃষ্ণের অষ্টতর শতনাম শ্রবণ করতে পারেন।

শ্রীকৃষ্ণ মিষ্টান্ন গ্রহণ করতে অত্যন্ত পছন্দ করে থাকেন এবং পঞ্চামৃত তার অত্যন্ত প্রিয়। তাই অবশ্যই জন্মাষ্টমীর দিন ভোগ হিসেবে পঞ্চামৃত ও মিষ্টান্ন দিতে ভুলবেন না। পঞ্চামৃত মধ্যে থাকবে দুধ, দই ,ঘি, মধু এবং শর্করা। শর্করা বলতে মিষ্টান্ন জাতীয় কিছু এবং তার সঙ্গে অবশ্যই গঙ্গাজল প্রদান করবেন। যদি পরিবারের সুকল্যাণ এর জন্য এবং আ’র্থিক উন্নতির জন্য কৃষ্ণের কৃপা লাভ করতে চান তাহলে অবশ্যই জন্মাষ্টমীর দিন বাড়িতে একটি রূপোর বাঁশি কিনে আনুন, এবং সেই বাঁশিটি শ্রীকৃষ্ণের পুজোর সময় তার কাছে রেখে দিন।

পুজোর শেষে পরেরদিন বাঁশিটি তুলে যে স্থানে টাকা-পয়সা রাখেন সেই স্থানে রেখে দিন। একটা জিনিস মনে রাখবেন কৃষ্ণের হাতে বাঁশি যেন সর্বদাই থাকে কারণ বাঁশি ছাড়া কৃষ্ণ অসম্পূর্ণ। কৃষ্ণ হলো বিষ্ণুর অষ্টম অবতার তাই তাকে আরাধনা করার সময় অবশ্যই দক্ষিণাবর্ত শঙ্খে জল দিয়ে তার অভিষেক করুন। এতে ভগবান অত্যন্ত খুশি হন এবং আপনি তাঁর কৃপা লাভ করতে পারবেন। তাই এই দিন ভোগ হিসেবে সাদা ঘি, মাখন, ক্ষীর প্রদান করুন ও মনষ্কামনা জানান – অবশ্যই তা পূরণ হবে।

Check Also

শনি বা মঙ্গলবার বালিশের নিচে চুপচাপ রেখে দিন এই জিনিসটি, ভাগ্য থাকবে তুঙ্গে, সুখ শান্তি আসবে..

মানুষের জীবনে দুঃখ কষ্ট সবারই আছে। সবাইকে প্রায় প্রতি নিয়ত কোন না কোন সমস্যার সম্মুখীন …