শিরোনাম:

চলছে আশ্বিনের মল মাস | এই মাসে করুন শুধু এই ১টি কাজ, সুখে শান্তিতে জীবন বদলে যাবে..

ভাদ্রমাসের শেষে সম্পন্ন হয়েছে মহালয়া। সবকিছু ঠিকঠাক চললে এই আশ্বিনের শারদপ্রাতেই বেজে উঠত পুজোর ঢাক! কিন্তু পঞ্জিকামতে, মহালয়ার ঠিক ৩৫ দিনের মাথায় দুর্গাষষ্ঠী। এমনিতেই করোনা আবহে হয়তো তেমন জোরে বাজবে না বোধনের ঢাক। তার সাথে বাঙালীর প্রাণের পুজোও এ বার আশ্বিনে নয়, হবে সুদূর কার্তিক মাসে। শরতের কাশফুল তত দিনে হয়তো ঢেকে দেবে হেমন্তের কুয়াশা।

পঞ্জিকায়, সেখানে আশ্বিন মাসকে এ বার ‘মল মাস’ বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাই দুর্গাপুজোও হবে কার্তিক মাসে। পৌরহিত্যের ভাষায় মল মাস হল ‘মলিন মাস’। হিন্দি বলয়ে বলা হয় ‘অধিক মাস’। অর্থাৎ, অতিরিক্ত মাস। কিন্তু এই মল মাস আসলে কি? সত্যিই কি অশুভ? এই মাসে কি কাজ করলে জীবনে সবচেয়ে বড়প্রাপ্তি ঘটবে সেই বিষয়ে আসুন বিস্তারিত জেনে নিই..

সৌর বছর ৩৬৫ দিনে এবং চন্দ্র বছর ৩৫৫ দিনে গণনা করে ১২ মাসে এক বছর হয়। চান্দ্র মাস অনুযায়ী নানা সনাতন ধর্মীয় অনুষ্ঠান হয়। তাই সৌর ও চন্দ্র বছরের সমন্বয়ের জন্য প্রতি তিন বছর পর পর যে একমাস বা ৩০ দিন অতিরিক্ত হয় সেটাই হল মল মাস বা অধিক মাস।

এই মল মাস অনেকটা ইংরেজি অধিবর্ষের মতো। ইংরেজিতে যেমন প্রতি চার বছর পর পর ফেব্রুয়ারির ১ দিন বাড়ে ঠিক তেমন ভাবে চান্দ্রমাসে প্রায় ৩ বছরে ১ মাস বৃদ্ধি পায়। আসল কথা হল, চান্দ্র ও সৌর বর্ষের মধ্যে একটি অতিরিক্ত মাস সমন্বয় করতে এই অতিরিক্ত মাস যোগ করা হয়।

এই অধিক মাস যদি যোগ না করা হতো তাহলে সনাতন বর্ষপঞ্জীতে বৈশাখ মাসে গ্রীষ্মকাল না হয়ে অনেক সময় মাঘ মাসে গ্রীষ্মকাল চলে যেত। এতে করে কালের সাথে মাসের অনেক পার্থক্য হয়ে যেত। মূলত অধিক মাস বলতে কিছু না। চান্দ্র ও সৌরবর্ষ ঠিক রাখতেই এই অধিক মাসের প্রচলন শাস্ত্র সম্মত। কোনো মাসে তিনটি প্রতিপদ তিথির সঞ্চার হলে অথবা দুটি অমাবস্যা হলে সেই মাসকে মলমাস বা অধিক মাস বা মলিন মাস বলে।

মল মাস বা অধিক মাসে স্মার্ত ব্রাহ্মণগণ কাম্যকর্ম, বিবাহ ইত্যাদি করেন না। ‘মল’ শব্দের অর্থ অশুভ। তাই তাদের দৃষ্টিতে মল মাস বা অধিক মাসে কর্মকাণ্ড অশুভ। তাই এই মাসকে বর্জিত হিসেবে হিন্দু ধর্মের কোনও পূজা বা শুভ অনুষ্ঠান যেমন বিবাহ, অন্নপ্রাশন ইত্যাদি হয় না। তবে শ্রাদ্ধ বা সপিণ্ডকরণ করা যায়। আরও একটি বিষয় হল অগ্রহায়ণ, পৌষ ও মাঘ মাস কখনও মলমাস হয় না।

কিন্তু পরমার্থ শাস্ত্রে অধিকমাসটিকে সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ বলে ঘোষণা করেছে। যেহেতু এ মাসটি সকল প্রকার সকাম কর্মশূণ্য, তাই এটি কৃষ্ণনামের জন্য সবচেয়ে উপযোগী। স্বয়ং পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণ পরম পবিত্র বৈশাখ, কার্তিক ও মাঘ মাস অপেক্ষা এই অধিকমাসকে বেশি গুরুত্ব প্রদান করেছেন এবং একে নিজ নাম পুরুষোত্তম দ্বারা অলংকৃত করেছেন। তাই মল মাসকে ‘পুরুষোত্তম মাস’ বলা হয়ে থাকে।

ব্রজধামে বৈষ্ণবগণ এই মাসে অনেক বেশী হরিনাম সংকীর্তন করেন অর্থাৎ
হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ, কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে।
হরে রাম হরে রাম, রাম রাম হরে হরে ।।

এই মহামন্ত্র জপ ও কীর্তন বৈষ্ণবগণ করে থাকেন।

শাস্ত্রে বর্ণিত আছে যে, এই মাসে শ্রীহরিনাম সংকীর্তনে অধিক ফল লাভ হয়। এছাড়াও এই মাসে এমন কিছু কাজ আছে যা করলে অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয়। এই মাসে ব্রহ্মমুহুর্তে অর্থাৎ সূর্য ওঠার আগের ৪৫ মিনিটের মধ্যে স্নান করা শুভ। তারপর মঙ্গল আরতিতে অংশগ্রহণ করুন এবং দান ধ্যান কার্য করুন। সন্ধ্যায় প্রদীপ নিবেদন করে গীতাপাঠ করুন বা গীতা পাঠ শ্রবণ করুন।

Check Also

এই মল মাসে রোজ সকালে পাঠ করুন এই ১টি দুর্গামন্ত্র | সংসার সুখ শান্তিতে ভরে উঠবে..

দুর্গাপূজা শুরু হতে আর মাত্র কয়েকটা দিন বাকি। এবছর মহালয়ার ৩৫ দিন পর দুর্গাপুজো পড়েছে। …